শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮:২২ পিএম, ২০২৫-১২-২৪
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার খুদুকখালী গ্রামের মরহুম মালেকুজ্জামানের ছেলে স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে নগরীর চান্দগাঁও থানার অন্তর্গত শমসের পাড়া এলাকার বেসরকারী চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হন। চান্দগাঁও থানার খাজা রোডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাসরত আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালে এক সপ্তাহ ভর্তি থাকার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা জানান, তিনি কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত। স্ট্রোকের কারণে তার বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতিদিন তাকে থেরাপি নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, স্ট্রোকের ফলে তার গলার খাদ্যনালি ও ফুসফুসে গুরুতর আঘাত লাগে। এ কারণে প্রায় এক মাস ধরে নাকের ভেতর নল দিয়ে নরম ও তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হচ্ছে। এসব ছাড়া তিনি অন্য কোনো খাবার খেতে পারছেন না। প্রায় ৮–৯ বছর ধরে হাই স্কুলে শিক্ষকতা করা আবুল কালামের দুই ছেলে বর্তমানে কলেজে অধ্যয়নরত।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আজীবন তাকে নিয়মিত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার অসুস্থতায় পরিবারে চরম আর্থিক সংকট দেখা দেয়। ফলে চিকিৎসা ও ছেলেদের পড়াশোনা ব্যাহত হলে শিক্ষক আবুল কালাম দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আশায় ঘুরে বেড়ান। তবে বেশিরভাগ জায়গায় তিনি নিরাশ হন। আজ ২৪ ডিসেম্বর বুধবার সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সাপ্তাহিক গণশুনানিতে মানবিক আবেদন নিয়ে হাজির হন এই অসহায় শিক্ষক। তার দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ান।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষক আবুল কালাম বলেন, “ডিসি স্যারের ব্যবহার খুবই অমায়িক। তাকে আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক মনে হয়েছে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের মানবিক কার্যক্রমের কথা শুনে গণশুনানিতে হাজির হন কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খোয়াজনগর গ্রামের শিক্ষার্থী কে.এম জয়নাল আবেদীন।
জয়নাল জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার পিতা ইসহাক আহমেদ বারী স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের অন্যান্য খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা জয়নালের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
জেলা প্রশাসক জয়নালের করুণ অবস্থা শুনে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন এবং তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসকের সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে জয়নাল বলেন, “আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানবিক ডিসি জাহিদুল ইসলাম স্যারের কথা অনেক শুনেছি। আজ নিজে প্রমাণ পেলাম।”
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “মানুষ গড়ার একজন শিক্ষক শুধু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারবেন না-এটা জেলা প্রশাসক হিসেবে মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর।”
কলেজ ছাত্র জয়নালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তার পিতা একজন মুয়াজ্জিন। পিতার চিকিৎসা ও নিজের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নেওয়ার জন্য সে আমার সহায়তা চেয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি বাজেট সীমিত হওয়ায় পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া সবসময় সম্ভব না হলেও আমি চেষ্টা করি, যেন কোনো অসহায় নাগরিক সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ না করেন”।
নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক যাত্রীর কাছ থেকà...বিস্তারিত
চবি প্রতিনিধি : : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন আইন ২০২৬ এর ৪ ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্à...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, সিএমপির উদ্যোগে তিনদিন মেয়াদি ওয়াচার কনস্টেবলদের ‘দক্ষতা উন্নয়ন কো...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : আহমদ উল্লাহ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মোহাম্মদ মনি...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited